November 5, 2026, 9:48 am
শিরোনাম:
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা? নাগরিকদের বাঁচার কৌশল শেখাচ্ছে ইরান হাড়িয়ারকুঠি ডাংগীরহাটের জনসাধারণের ব্যবহারের টয়লেট, নাকি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়? গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে প্রাণ গেল গাইবান্ধার তৌফিকের ৬ সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব, জমি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাছতলায় ফেলে গেলেন সন্তানেরা! তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউপি পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব তারাগঞ্জে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে মন্দ্রিরা রানী মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করলেন সাংবাদিক সুয়েজ তারাগঞ্জে জাতীয় যুবদিবস উদযাপন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দাবিবিহীন দলিল ধ্বংসের উদ্যোগ, সংগ্রহে সময় এক মাস

৪৭ বছর পর ফিরতে পারে ‘গ্রাম সরকার’, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর ১৭ সদস্যের কাঠামোর আভাস

Reporter Name

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও গ্রাম সরকারব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের খসড়ায় একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত হওয়া ও কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাম সরকারব্যবস্থা চালুর বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

কারা থাকবেন গ্রাম সরকারে?

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্রাম সরকারের প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ১৫ সদস্যের মধ্যে কৃষক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, যুব প্রতিনিধি, পেশাজীবী, সমাজসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

খসড়ায় সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতিতেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের অংশগ্রহণে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতির শর্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।

কী কাজ করবে গ্রাম সরকার?

গ্রাম সরকারের সম্ভাব্য দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে গ্রামের রাস্তা-ঘাট ও কালভার্ট উন্নয়নের পরিকল্পনা, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা, কৃষি ও মৎস্য খাতে সহায়তা এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক, জুয়া, চুরি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় সহযোগিতা করার দায়িত্বও প্রস্তাবিত কাঠামোয় রাখা হয়েছে।

কীভাবে শুরু, কেন বন্ধ হয়েছিল?

দেশে গ্রাম সরকারব্যবস্থার সূচনা হয় ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানো ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে ব্যবস্থাটি বিলুপ্ত হয়।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৭ সালে গ্রাম পরিষদ এবং ২০০৩ সালে নতুন করে গ্রাম সরকারব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার আইনকে ২০০৫ সালে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। পরে ২০০৯ সালে আইনটি রহিত করা হয়।

বাস্তবায়ন নিয়ে কী অপেক্ষা?

নতুন আইনের খসড়া তৈরি হলেও গ্রাম সরকার কবে থেকে কার্যক্রম শুরু করবে, তা এখনো চূড়ান্ত নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও, নির্বাচনের পরপরই গ্রাম সরকার চালু হবে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, নতুন কাঠামো কার্যকর করতে হলে বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা, জবাবদিহি ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, সঠিক প্রতিনিধিত্ব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে গ্রাম সরকার গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জনসেবায় ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, ৪৪ বছর পর গ্রাম সরকারব্যবস্থা পুনরায় চালুর উদ্যোগ তৃণমূল প্রশাসন নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, খসড়াটি চূড়ান্ত আইন হিসেবে অনুমোদন পায় কি না এবং বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা