November 5, 2026, 10:08 am
শিরোনাম:
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা? নাগরিকদের বাঁচার কৌশল শেখাচ্ছে ইরান হাড়িয়ারকুঠি ডাংগীরহাটের জনসাধারণের ব্যবহারের টয়লেট, নাকি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়? গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে প্রাণ গেল গাইবান্ধার তৌফিকের ৬ সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব, জমি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাছতলায় ফেলে গেলেন সন্তানেরা! তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউপি পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব তারাগঞ্জে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে মন্দ্রিরা রানী মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করলেন সাংবাদিক সুয়েজ তারাগঞ্জে জাতীয় যুবদিবস উদযাপন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দাবিবিহীন দলিল ধ্বংসের উদ্যোগ, সংগ্রহে সময় এক মাস

লাইব্রেরি আছে, বই নেই; ল্যাব আছে, ব্যবহার নেই—বেহাল ধুমেরকুঠি বিদ্যালয়

Reporter Name

রকি আহমেদ (রংপুর)প্রতিনিধি :রংপুরের হারাগাছ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধুমেরকুঠি হায়দারিয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে লাইব্রেরি থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত বই না থাকা, বিজ্ঞান ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ, পর্যাপ্ত কম্পিউটার না থাকা এবং খেলাধুলার সরঞ্জাম ব্যবহার না করার চিত্র দেখা গেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের জমি ও বিভিন্ন খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান মো. আকরামুল বলেন, আগের লাইব্রেরির বইগুলো ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে সেগুলো একটি শ্রেণিকক্ষের এক কোণে স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ল্যাবটি প্রায় দুই মাস ধরে তালাবদ্ধ থাকায় তারা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞান বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের চিত্রও একই রকম। পর্যাপ্ত কম্পিউটার না থাকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক নিজের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

খেলাধুলার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা অভিযোগ। বিদ্যালয়ে পিটি শিক্ষক থাকলেও নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন হয় না। খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রধান শিক্ষকের আলমারিতে তালাবদ্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের পিটি শিক্ষক।

এদিকে বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে প্রায় ১৪ থেকে ২০ বিঘা জমি রয়েছে। তবে এসব জমি থেকে আয় এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ তাদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আতাউল রহমানও বিদ্যালয়ের ১৪ থেকে ১৫ বিঘা সম্পত্তি থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব সম্পত্তি ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, “সবকিছু প্রধান শিক্ষকই নিয়ন্ত্রণ করেন।”

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি না করে এডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই ব্যক্তিদের বারবার কমিটিতে রাখার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেশন ফিসহ বিভিন্ন খাতের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয় না বলেও দাবি স্থানীয়দের। এর আগে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগও উঠেছিল বলে জানান তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বসার জায়গা নিয়েও রয়েছে সংকট। সরেজমিনে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষকরা গাদাগাদি করে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “লিখিত নিয়ে ইউএনও ও শিক্ষা অফিসারের অনুমতি নিয়ে আসেন। আমার সঙ্গে দেখা করেন, চা খেয়ে কথা বলব।” তবে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত উল্লাহ বলেন, “তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আঞ্চলিক উপ-পরিচালক রোকসানা বেগম বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের নামে আগেও অনেক অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, জমি-সম্পত্তি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করে বিদ্যালয়টির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা