ভিনদেশের মাটিতে সন্তানের জন্য নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান; বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ নিয়েও নতুন করে ভাবনার বার্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক:বাবার কোনো বয়স হয় না, বাবার ভালোবাসার কোনো সীমা থাকে না। সন্তানের বিপদে একজন বাবা কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রংপুরের সাংবাদিক সুয়েজ। ভিনদেশের মাটিতে নিজের মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন তিনি। নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ দিয়ে মেয়েকে নতুন জীবনের আশা দেখিয়েছেন এই বাবা।
একটি কিডনি দান করে সুয়েজ শুধু মেয়ের জীবন বাঁচানোর চেষ্টাই করেননি, প্রমাণ করেছেন সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসা কতটা গভীর ও নিঃস্বার্থ হতে পারে। তাঁর এই আত্মত্যাগ আবেগাপ্লুত করেছে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ অসংখ্য মানুষকে।
পৃথিবীতে বাবা-মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। সন্তানকে ভালো রাখতে বাবা-মা নিজেদের সুখ, স্বপ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। অথচ জীবনের একপর্যায়ে অনেক বাবা-মাকেই সন্তানের কাছে অবহেলা ও অনাদরের শিকার হতে হয়। কোথাও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঠাঁই হয় না সন্তানের ঘরে, কোথাও তাঁদের খাবার ও প্রয়োজনীয় খরচের হিসাবও কষতে হয়।
সাংবাদিক সুয়েজের এই আত্মত্যাগ তাই শুধু একজন বাবার ভালোবাসার গল্প নয়; এটি আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
সন্তানের জন্য যেমন একজন বাবা নিজের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করতে পারেন, তেমনি বড় হয়ে সন্তানদেরও বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। যে বাবা-মা নিজেদের না খেয়ে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেন, বয়সের ভারে নুয়ে পড়লে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব।
সন্তানকে ভালোবাসার পাশাপাশি নিজের বাবা-মাকেও একই মমতা ও শ্রদ্ধায় আগলে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। কারণ, আজ আমরা যেভাবে আমাদের সন্তানদের যত্ন করি, একদিন আমাদের বাবা-মাও ঠিক সেভাবেই আমাদের আগলে রেখেছিলেন।
সাংবাদিক সুয়েজের এই বিরল ত্যাগের ঘটনা সমাজের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলুক—এমন প্রত্যাশা সবার।
মহান আল্লাহ সাংবাদিক সুয়েজ ও তাঁর মেয়েকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন। তাঁদের দীর্ঘ ও সুন্দর জীবন দান করুন। একজন বাবার এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা হয়ে থাকুক মানবিকতার অনন্য উদাহরণ।