বুলবুল হোসেন, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি(জেনারেল কলেজ)পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মন্দ্রিরা রানী। সে তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট সরকারি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
মন্দ্রিরা রানী উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা শ্রী স্বপন কুমার রায় এবং মা শ্রীমতি স্মৃতি বর্মন রায়। ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মন্দ্রিরা এইচএসসি পরীক্ষায় রোল নম্বর ২৭৪৩৫৫ নিয়ে অংশগ্রহণ করে।
তার শিক্ষাজীবনের পথচলায় ছিল সাফল্য-ব্যর্থতার মিশ্র অভিজ্ঞতা। ২০২৪ সালে তারাগঞ্জ ও/এ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল সে। তবে সেই ফলাফলে হতাশ না হয়ে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নেয়। অবশেষে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনের মাধ্যমে নিজের মেধা ও অধ্যবসায়ের প্রমাণ দিয়েছে মন্দ্রিরা।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মন্দ্রিরা রানী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলে, “এসএসসি পরীক্ষায় আমার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। তখন খুব মন খারাপ হয়েছিল। তবে আমি হাল ছাড়িনি। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরে সত্যিই অনেক আনন্দিত। আমার এই সাফল্যে যারা সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
মন্দ্রিরা রানীর সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তারাগঞ্জ ওয়াক্ফ এস্টেট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিধান চন্দ্র রায় বলেন, “মন্দ্রিরা রানীর এই অর্জন আমাদের কলেজের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তার একাগ্রতা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফলেই এ সাফল্য এসেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। সে যেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
এদিকে মন্দ্রিরা রানীর সাফল্যে আনন্দিত তার নিজ গ্রামের এলাকাবাসীও। তাঁরা বলেন, “আমাদের গ্রামের মেয়ে মন্দ্রিরা জিপিএ-৫ অর্জন করে পুরো এলাকার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। বিশেষ করে এসএসসিতে আশানুরূপ ফল না করেও হাল না ছেড়ে এইচএসসিতে এমন ভালো ফল করা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার। আমরা তার ভবিষ্যৎ জীবনের আরও সাফল্য কামনা করি।”