তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে পড়ে ছিল এক নারীর রক্তাক্ত নিথর দেহ। পরিচয় জানা না থাকায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা হিসেবেই উদ্ধার করা হয় তাকে। পরে সিআইডির ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন টিমের সহায়তায় শনাক্ত হয় তার পরিচয়। নিহত ওই নারীর নাম কুলসুম (৫০)। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার বৈরাতি ব্রিজের পশ্চিমে মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারণা, অজ্ঞাতনামা কোনো দ্রুতগামী যানবাহনের ধাক্কায় ওই নারী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
নিহতের পরিচয় শনাক্তে পরে ঘটনাস্থলে আসে রংপুর সিআইডির ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন টিম। তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, কুলসুম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের মোগর আলীর মেয়ে।
তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ নিহতের স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছে দিতে আদিতমারী থানার ওসির মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহন ও চালককে শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মহাসড়কে এমন দুর্ঘটনা আবারও পথচারীদের নিরাপত্তা এবং দ্রুতগামী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে কুলসুমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে থেমে গেছে একটি জীবনের পথচলা—যার পরিচয়ও মৃত্যুর পরই ফিরে পেল তার স্বজন ও স্বজনহারা পৃথিবী।