November 5, 2026, 9:57 am
শিরোনাম:
পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা? নাগরিকদের বাঁচার কৌশল শেখাচ্ছে ইরান হাড়িয়ারকুঠি ডাংগীরহাটের জনসাধারণের ব্যবহারের টয়লেট, নাকি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়? গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে প্রাণ গেল গাইবান্ধার তৌফিকের ৬ সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব, জমি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাছতলায় ফেলে গেলেন সন্তানেরা! তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউপি পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব তারাগঞ্জে একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে মন্দ্রিরা রানী মেয়ের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করলেন সাংবাদিক সুয়েজ তারাগঞ্জে জাতীয় যুবদিবস উদযাপন সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দাবিবিহীন দলিল ধ্বংসের উদ্যোগ, সংগ্রহে সময় এক মাস

নামের মিলেই কি কারাগারে মমিনপুরের প্রকৌশলী প্রদীপ? এলাকাবাসীর প্রশ্ন

Reporter Name

রংপুর সদর প্রতিনিধি:শুধু নামের মিলের কারণে রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকা জেলা কারাগারে রয়েছেন—এমন দাবি করেছে তার পরিবার। গত ১৬ আগস্ট দুপুরে ঢাকার একটি ব্যাংকের সামনে থেকে খিলক্ষেত থানা পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সোমবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। মমিনপুর এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয়। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন, ভক্ত-অনুসারীসহ স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রংপুর সদর উপজেলা শাখার একটি কমিটিতে ‘প্রদীপ রায়’ নামে একজনকে গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে। ওই নামের সঙ্গে প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায়ের নামের মিল থাকায় তাকে সন্দেহমূলকভাবে আটক করা হয়েছে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, রংপুরের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায়ের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত করে প্রমাণ হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের ভাষ্য, কমিটিতে নাম থাকা ‘প্রদীপ রায়’ প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায় নন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতির বড় ভাই। প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায়ের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেছে পরিবার।

স্থানীয়দের দাবি, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ নং মমিনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ ছিল প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায়ের। এ কারণে তিনি মাঝে মধ্যে এলাকায় আসতেন। বিভিন্ন শিক্ষা ও ক্রীড়া অনুষ্ঠান, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং অসহায় মানুষের সহায়তায় তাকে সম্পৃক্ত হতে দেখা গেছে বলেও জানান তারা।

তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ এটিকে ষড়যন্ত্র বা স্থানীয় বিরোধের ফল বলে সন্দেহ করছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায়ের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ‘প্রদীপ রায়’কে শনাক্ত এবং নামের মিলের কারণে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তা নিরসনের দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানা পুলিশের বক্তব্য এবং আদালতে দাখিল করা মামলার নথিতে প্রকৌশলী প্রদীপ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা জানা গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা