তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:রংপুরের তারাগঞ্জে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাঁশ কাটায় বাধা দিতে গিয়ে ওই নারীর ভাইকেও লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো:ফরিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ফরিদুল ইসলামের দাবি, প্রায় ২৮ বছর আগে তিনটি কবলা দলিলের মাধ্যমে তিনি ওই জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। রুহুল আমিনের কাছ থেকে দলিল নং ১৯৭০ ও ১৭২৯ এবং নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে দলিল নং ১৬০৯-এর মাধ্যমে জমি কেনেন তিনি।
ফরিদুলের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তাঁর ক্রয় ও ভোগদখলীয় জমি দখলের চেষ্টা করে আসছেন। এ নিয়ে এর আগেও তিনি কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন ১০-১২ জন ব্যক্তি তাঁর বাঁশবাগানে ঢুকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি পরিপক্ব বাঁশ কাটতে থাকেন। খবর পেয়ে ফরিদুলের স্ত্রী মোছা: মহছেনা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশ কাটার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁর গলায় থাকা আনুমানিক চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঁশবাগান থেকে কেটে নেওয়া বাঁশের আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী হযরত বেলাল বলেন, বাঁশ কাটার শব্দ শুনে তাঁর বোন ফোন করলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে কয়েকজনকে বাঁশ কাটতে এবং তাঁর বোনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বাঁশ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকেও লাঠি দিয়ে মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে আহত মহছেনা বেগমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ফরিদুল ইসলাম বলেন,ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমাধান হয়নি। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তারাগঞ্জ থানার ওসি ইজাহার উদ্দিন বলেন,আমি সদ্য যোগদান করেছি। অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।