বিশেষ প্রতিনিধি:মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিল সে। স্বজনদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে একদিন পর একটি বাগান থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
জানা গেছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে হেঁটে বের হয় অপ্রতিম। এ সময় তার পরনে ছিল পাঞ্জাবি। মায়ের আইফোন সঙ্গে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি সে।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর পুলিশ ও স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য গতিপথ ও সর্বশেষ অবস্থান শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজও বিশ্লেষণ করা হয়।
অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল। বের হওয়ার সময় তার পরনে ছিল পাঞ্জাবি। এরপর আর সে ফিরে আসেনি।’
তবে নিখোঁজের পর অপ্রতিমকে জীবিত উদ্ধারের আশায় স্বজনদের অপেক্ষার অবসান হয় মর্মান্তিকভাবে। পরে একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।