ঢাকা প্রতিনিধি:আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের তারিখ ১২ নভেম্বর। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, “আমরা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে চাই।” ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের ভোট ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিটি স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
এদিকে, ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পর ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৩ জন। এতে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নতুন তালিকায় যুক্ত এসব ভোটার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদনের শেষ সময় ছিল ৭ সেপ্টেম্বর এবং তা নিষ্পত্তির সময় শেষ হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর। এখন ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।
আইনে একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন ও বিধিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে ‘না’ ভোটের বিধান চালুর সিদ্ধান্ত থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাবে এ বিধান রাখা হয়নি।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও বাতিলের সুপারিশ করেছে ইসি। স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবে হলফনামায় নতুন তথ্য সংযুক্ত করা এবং অসত্য তথ্য দিলে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।
নির্বাচনি অপরাধে শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে নির্বাচন বন্ধ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করেনি কমিশন। ফলে আগের মতোই শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
চূড়ান্ত প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তবে দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাব থাকলেও কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।