November 6, 2026, 12:01 pm
শিরোনাম:
তারাগঞ্জে গাছের বুকে পেরেক, নীরবে ক্ষতবিক্ষত সবুজ প্রকৃতি তারাগঞ্জে মধ্যরাতে ইউএনওর অভিযান, ১১৭ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ, কলম হোক অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে—তারাগঞ্জে মডেল প্রেসক্লাবের সদস্য বরণ মাদক নয়, মাঠেই গড়ুক আগামীর স্বপ্ন—তারাগঞ্জে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা? নাগরিকদের বাঁচার কৌশল শেখাচ্ছে ইরান হাড়িয়ারকুঠি ডাংগীরহাটের জনসাধারণের ব্যবহারের টয়লেট, নাকি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়? গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে প্রাণ গেল গাইবান্ধার তৌফিকের ৬ সন্তানের কেউই নিচ্ছেন না দায়িত্ব, জমি লিখে নিয়ে ৯৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে গাছতলায় ফেলে গেলেন সন্তানেরা! তারাগঞ্জে মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি ইউপি পরিদর্শনে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব

গঙ্গাচড়ায় আগুনে পুড়ে চার গরু ও বসতঘর ছাই, নিঃস্ব দিনমজুর পরিবার

Reporter Name

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের আলেকিসামত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি গরু ও একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। আগুনে পরিবারের একমাত্র সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন দিনমজুর বিবিদাস চন্দ্র রায় (৩৫)।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মশা তাড়ানোর জন্য গোয়ালঘরে জ্বালানো একটি কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিবিদাস চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। কয়েক বছর আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দুটি গরু কেনেন। পরে সেই গরু থেকে আরও দুটি বাছুর জন্ম নেয়। চারটি গরু বড় হলে সেগুলো বিক্রি করে কিছু জমি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু এক রাতের আগুনে সেই স্বপ্ন ভস্মীভূত হয়ে যায়।

আগুনে গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরুই পুড়ে মারা যায়। পরে আগুন বসতঘরে ছড়িয়ে পড়লে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় সবকিছু পুড়ে যায়। প্রাণে রক্ষা পেলেও পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি পরিবারটি।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে মারা যাওয়া গরুগুলো মাটি চাপা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা। এ সময় আগুনে পুড়ে যাওয়া কাপড়চোপড় বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছিলেন বিবিদাসের স্ত্রী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ভগবান, হামাগো কষ্টের ফসল তুই এমন করি কাড়ি নিলু। তুই কি চাইস না গরিব মানুষ ভালো করি খায়া বাঁচুক? তিন বেলা দুই মুঠ ভাত খাইয়া বাঁচার চাওয়া কি অপরাধ?”

স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বলেন, “আমরা বাজারে চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশন দেখছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে এসে দেখি আগুন। সবাই মিলে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। কিন্তু বাড়ির রাস্তায় বাঁশঝাড় থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে দেরি হয়। ততক্ষণে চারটি গরুই মারা যায় এবং আগুন বসতঘরেও ছড়িয়ে পড়ে।”

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, “বিবিদাস অনেক কষ্ট করে এই সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবারটি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।”

গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চলতি দায়িত্বে থাকা স্টেশন মাস্টার আব্দুল বারী জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলেও রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা থাকায় কিছুটা বিলম্ব হয়। আগুনে চারটি গরু ও বসতঘরের মালামাল পুড়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই বস্তা শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা