রংপুর(সদর)প্রতিনিধি:রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাঠ ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বাড়ির লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এ সময় গোয়ালঘরে থাকা ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি গাভীও আগুনে পুড়ে মারা যায়। এতে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মো:ইয়াজুল ইসলামের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এশার নামাজের সময় হঠাৎ বাড়ির দিক থেকে আগুনের চিৎকার শুনতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গোয়ালঘরের পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির তার ছিঁড়ে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। এতে পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আগুনের কাছে যেতে পারেননি কেউ।
পরে স্থানীয়রা বিদ্যুৎ অফিসে খবর দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসকেও খবর দেওয়া হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের দূরত্ব বেশি হওয়ায় দলটি পৌঁছানোর আগেই আগুনে বাড়ি ও গোয়ালঘরের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অবশিষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলী মাস্টার বলেন,হঠাৎ আগুনের চিৎকার শুনে আমরা ছুটে আসি। কিন্তু আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। তার ওপর বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ভয় থাকায় কেউ কাছে যেতে পারছিল না। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে লাইন বন্ধ করা হলেও ততক্ষণে প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শুনেছি, মাত্র এক পর গরু দুটি বাচ্চা দেওয়ার কথা ছিল। এত বড় ক্ষতি মেনে নেওয়া খুবই কষ্টের। মানুষটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডে ঘরের বিভিন্ন মালামালসহ গোয়ালঘর পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে ফ্রিজিয়ান জাতের দুটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যাচাই করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হোক।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা কয়েলের আগুন থেকেই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।