নিজস্ব প্রতিবেদক:স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিতে বহাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধি হতে চাইলে আগে চাকরি ছাড়তে হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আইনে সংশোধনের প্রস্তাব সরকারকে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সংস্থাটি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
এজন্য স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ধারা ২৩(১), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ধারা ১৯(ঙ), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ধারা ৯(ঙ), উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ৮(ঙ) এবং জেলা পরিষদ আইনের ধারা ৬(ঙ)-এ সংশোধনের সুপারিশ করা হবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে যোগ করা হবে— “প্রজাতন্ত্রের কর্মে বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অথবা কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন”—এমন ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এ সংশোধনী কার্যকর হলে দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭ লাখ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ১১.১৭ (ক) ও (খ)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ প্রস্তাব আনা হচ্ছে। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা আর্থিক লাভজনক পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এ নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সরকার তার এমপিও সুবিধা বাতিলসহ বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকারের বেতন, ভাতা, সম্মানিসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান, সাংবাদিকতা বা আইন পেশায় কর্মের বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতন, ভাতা বা সম্মানিকে বোঝানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো:আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সার্কুলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ প্রস্তাব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে শিক্ষকরা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকরা নিজেরাই প্রার্থী হলে সহকর্মীদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনী সরকার অনুমোদন করে আইনে পরিণত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন এই বিধান কার্যকর হবে।