অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভীমপুর শৈলবাড়ী মৌলভীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো:আব্দুল হামিদ (৩৫) গত ১ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মোবাইলের কিস্তির টাকা জমা দিতে মোটরসাইকেলযোগে নতুন চৌপথির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ১ নম্বর আসামি রাব্বি তার মোটরসাইকেল থামিয়ে সামনে গিয়ে চা পান করার কথা বলে একটি দোকানে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সহযোগীদের সহায়তায় তাকে জোরপূর্বক উপজেলার ২ নম্বর কুর্শা ইউনিয়নের একটি শ্মশানঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে অপরাধ স্বীকারের ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে রাব্বির বাড়িতে নিয়ে রাতভর আটকে রাখা হয়। এ সময় প্রথমে তার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরদিন (২ আগস্ট) সকালে অভিযুক্তরা তাকে সঙ্গে নিয়ে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এক দাদন ব্যবসায়ীর কাছে বন্ধক রেখে এক লাখ টাকা সংগ্রহ করে। টাকা আদায়ের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত রাব্বি ও আসাদুলসহ তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দাঙ্গাবাজি, জোরপূর্বক দোকানঘর দখল, মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং নারীদের ব্যবহার করে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাব্বি বিভিন্ন সময় নিজেকে ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণা করতেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো:আব্দুল হামিদ বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।