রংপুর প্রতিনিধি:রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু কুমারেশ রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, অবহেলা এবং জনগণের কাছ থেকে আদায় করা করের টাকা ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন এক ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাড়িয়ারকুঠি ডাংগীরহাট বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজুমদার রহমানের নেতৃত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের জবাবদিহি দাবি করা হয়।
মানববন্ধনে ইউপি সদস্য মজুমদার রহমান অভিযোগ করে বলেন, “আমি চেয়ারম্যানের কাছে অবহেলিত। কোনো কাজ নিতে গেলে আগাম টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। জনগণও তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।” তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যান নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন না এবং সপ্তাহে মাত্র দুই দিন, অর্থাৎ মাসে প্রায় আট দিন পরিষদে আসেন।
এছাড়া চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ইউনিয়নের একটি সরকারি উদ্যানে সরকারি ডাক বা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ারও অভিযোগ তোলেন ওই ইউপি সদস্য।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান বাবু কুমারেশ রায়কে পাওয়া যায়নি। পরে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনিমেষ সরকারের সঙ্গে কথা হয়।
কর আদায়ের টাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনিমেষ সরকার জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রেজুলেশনের মাধ্যমে বসতবাড়ির কর আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৫০৫ টাকা কর আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সম্মানী বাবদ সংশ্লিষ্টদের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সম্মানী বাবদ ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে পরিষদের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা জমা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কর আদায়ের টাকা দিয়ে সেলাই মেশিন বিতরণ ও সড়কের পাশে গাছ রোপণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, এসব কাজ করের টাকা দিয়ে করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পরিষদে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইউপি সদস্য ও স্থানীয়রা।